পাঠ ৭

ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্য জীবন যাপনের এই লড়াইয়ে তিনি আমাদের অত্যন্ত কার্যকর কিছু হাতিয়ার দিয়েছেন। সেগুলো ব্যবহার না করলে আমরা ব্যর্থ হব।

জীবন অত্যন্ত জটিল। খ্রীষ্টধর্ম এমন কোনো বিশ্বাস নয় যা আপনাকে আড়ালে লুকিয়ে রাখে যাতে আপনি আঘাত না পান। বরং ঈশ্বর আমাদের অন্তরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন এবং আমাদের হুকুম দিয়েছেন, যেই অন্ধকারে আমরা জন্মেছি, সেই অন্ধকারের মাঝে সেই আলোক শিখাকে ছড়িয়ে দিতে। দুনিয়া আমাদের কাছ থেকে যা আশা করে, তিনি আমাদের তার চেয়ে ভিন্নভাবে জীবনযাপন করতে বলেছেন।

যখন আমরা আত্মিকভাবে পুনর্জন্ম লাভ করি, তখন বাকি জীবনের জন্য আমাদের নিয়মিত পুষ্টি প্রয়োজন। আমরা দিনে বহুবার খাবার খাই। প্রতিদিন অনেক ঘণ্টা ঘুমাই। প্রচুর পানি পান করি। এই খাবার, পানি ও ঘুমের আধ্যাত্মিক রূপ হলো বাইবেল পাঠ, প্রার্থনা এবং অন্যদের সঙ্গে মিলে তাঁর ইবাদত করা।

এই দুনিয়া নাপাক বা কলুষিত। কিন্তু আমাদের পবিত্র থাকতে বলা হয়েছে। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিদিন আমাদের অন্তরে দুনিয়ার ময়লা এসে লাগে। চোখের মাধ্যমে আমরা বিকৃতি, পাপাচার দেখি। কানে শুনি মন্দ কথা আর অভিশাপ। আমাদের হাত দিয়ে আমরা কাঁটার যন্ত্রণা আর বন্ধুর আঘাত অনুভব করি। জিহ্বা দিয়ে আমরা বিষাক্ত তিতা স্বাদ পাই। আর নাকে পাই মরার পচা দুর্গন্ধ।

কলুষতা ধুয়ে ফেলতে, অন্ধকারকে দূরে ঠেলতে আর চারপাশের দুনিয়াকে বদলে দিতে ঈশ্বর আমাদের কী কী হাতিয়ার দিয়েছেন?

প্রথমত, যেমনটা আমরা আগেই আলোচনা করেছি, তিনি বাইবেলে আমাদের জীবনের জন্য তাঁর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। বাইবেল পাঠ করে এবং ঈশ্বরের ওয়াদাগুলোকে অন্তরে ধারণ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের মনকে শুদ্ধ এবং অন্তরকে শক্তিশালী করি।

দ্বিতীয়ত, তিনি আমাদের ভেতরে পবিত্র আত্মা দিয়েছেন, যেন আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে পারি এবং তাঁর সাড়া অনুভব করতে পারি। এটা আমাদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং দুনিয়াকে বদলে দিতে ও ভিন্নভাবে বাঁচার শক্তি জোগায়।

তৃতীয়ত, তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত ও মহিমা কীর্তন করার জন্য। যখন আমরা তাঁর উপাসনা করি, তিনি আমাদের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন এবং এই দুনিয়া আমাদের যে ক্ষত দেয়, তা সারিয়ে তুলতে শুরু করেন।

চতুর্থত, তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন যেন আমরা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে মানুষ, পশুপাখি এবং তাঁর দেওয়া এই দুনিয়াকে ভালোবাসি ও উপভোগ করি। আমাদের অন্য মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো এবং এই প্রাকৃতিক জগতকে উপভোগ করাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আমাদের সেইসব মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো খুব জরুরি যারা আমাদের মতো ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে ও ভালোবাসে। এটা আমাদের উৎসাহিত ও শক্তিশালী করে। এটা আমাদের ভারসাম্যহীন হওয়া থেকে রক্ষা করে। একেই বলা হয় মণ্ডলী বা চার্চমণ্ডলী বা চার্চ কোনো দালান নয় যেখানে আমরা মিলিত হই, বা কোনো প্রার্থনাসভা নয় যেখানে আমরা উপস্থিত হই; মণ্ডলী হলো সেইসব মানুষ যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে এবং আমাদেরকেও ভালোবাসে। যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে তাদের সঙ্গে সময় কাটানো (বাইবেল পড়া, প্রার্থনা, উপাসনা এবং বাইবেলে বর্ণিত ঈশ্বরের হুকুম অনুযায়ী চলতে একে অপরকে সাহায্য করা) অত্যন্ত জরুরি।

অনেকেই ভাবেন অন্য খ্রীষ্টের অনুসারীদের সঙ্গে মিলিত হওয়া আদৌ গুরুত্বপূর্ণ কি না। কিন্তু বাইবেল বলছে, এটাই হলো আসল উদ্দেশ্য। যীশু পুনরায় জীবিত হয়েছেন একটি প্রেমময় সমাজ তৈরি করার জন্য: যা তাঁর মাধ্যমে পবিত্র হবে এবং তাঁর মাধ্যমেই তৃপ্ত হবে। পুনরুত্থানের পর তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে খাবার খাওয়া, পথ চলা এবং তাদের ব্যক্তিগত ঘরে দেখা করার মাধ্যমে তিনি এর একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এটুকু যদি আমাদের জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে একজন পুরোহিতের বলা এই উদ্দীপনামূলক গল্পটি আমাদের সাহায্য করতে পারে:

একদিন এক ব্যক্তি একজন পুরোহিতের কাছে এসে বললেন, “ফাদার, আমার ভাই পল নিজেকে আমার এবং অন্য সব খ্রীষ্টানদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে। আপনি গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলুন এবং তাকে বোঝান যে তার ফিরে আসা দরকার!”

পুরোহিত পলের বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লেন এবং ভেতরে যাওয়ার অনুমতি পেলেন।

ভেতরে ঢুকে তিনি দেখলেন, পল দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা একটি আগুনের কুণ্ডলীর দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা নীরবে একে অপরকে অভিবাদন জানালেন এবং পুরোহিত পলের পাশে বসে আগুনের দিকে তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পর পুরোহিত একটি সাঁড়াশি দিয়ে আগুনের ভেতর থেকে একটি জ্বলন্ত সাদা কয়লা তুলে নিয়ে আগুনের ঠিক বাইরে পাথুরে মেঝের উপর রাখলেন। তিনি পলের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন এবং অপেক্ষা করতে লাগলেন। কয়েক মিনিট মধ্যেই কয়লাটি এতোটাই ঠান্ডা হয়ে গেল যে তাতে আর কোনো আগুন অবশিষ্ট রইল না।

পুরোহিত আবার পলের দিকে মাথা নাড়লেন, কয়লাটি তুলে পুনরায় আগুনের ভেতর ফেলে দিলেন। কিছুক্ষণ পরই কয়লাটি জ্বলতে শুরু করল। পুরোহিত হাসলেন, শেষবারের মতো পলের দিকে তাকিয়ে উঠে চলে গেলেন।

আমরা হলাম সেই কয়লার মতো। আমাদের চারপাশে অন্যদের প্রজ্বলিত আগুন ছাড়া আমরাও একসময় শীতল হয়ে যাব, আমাদের ভেতরের তেজ হারিয়ে ফেলব। তাই আমাদের বাইবেল পড়তে হবে, প্রতিদিন নিয়মিত প্রার্থনা ও ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে আর অন্য খ্রীষ্টানদের সঙ্গে সময় কাটানোকে গুরুত্ব দিতে হবে; যাতে আমরা একে অপরকে ঈশ্বরের খুশির জন্য আনন্দের সাথে তাঁর হুকুম পালনে সাহায্য করতে পারি।

আমরা যদি তা করি, ঈশ্বর আমাদের শক্তিশালী করবেন, উৎসাহিত করবেন এবং আশীর্বাদ দেবেন। তখন তিনি আমাদের এমন সব মানুষের কাছে সুসমাচার পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দেবেন, যাদের এটা আমাদের মতোই খুব প্রয়োজন।

গভীরে অনুসন্ধান করুন

গালাতীয় ৫:২২-২৬, গীতসংহিতা ১২১:১-৮ এবং ১ করিন্থীয় ১২:২০ - ১৩:১৩ পড়ুন। ঈশ্বর আমাদের কীভাবে জীবন যাপন করতে বলেন, তা কি আপনার কাছে স্পষ্ট? এই পদগুলোতে আপনি যে ভালোবাসার কথা পড়েছেন, তা বাস্তবে পালন করার শক্তি যেন ঈশ্বর আপনাকে দেন, সেই প্রার্থনা করুন। এই ধরনের ভালোবাসা চর্চা করার জন্য আপনি অন্তত কোন একটি কাজ শুরু করতে পারেন? সেটি লিখে ফেলুন, এবং এখনই তা করতে বেরিয়ে পড়ুন!

পূর্ববর্তী List List পরবর্তী