পাঠ ১
আমরা সুসংবাদ নিয়ে এসেছি। আমরা যদি ভালোবাসা ও ভক্তি নিয়ে ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখি এবং তাঁর আনুগত্য করি, তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি আমাদের ভালোবাসবেন ও ক্ষমা করবেন, এবং আমাদের অনন্ত জীবন দেবেন, দেবেন পাপাচার থেকে মুক্তি, এবং তাঁর পরম সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য।
আপনি কি এটা বিশ্বাস করেন? আপনি কি বুঝতে পারছেন, এর অর্থ আপনার জন্য কী দাঁড়ায়?
বাইবেল বলে, আমরা জন্মেছি ঈশ্বরকে ভালোবাসতে, তাঁর কথা মানতে, এবং চিরকাল তাঁর সঙ্গে আনন্দে থাকতে, কিন্তু আমরা তা পারি না।
কেন?
কারণ আমরা দুইভাবে তাঁর থেকে পৃথক হয়ে জন্মেছি।
প্রথমত, আমরা তাঁকে চিনি না, এবং আমরা যাঁকে চিনি না, তাঁকে ভালোবাসতেও পারি না।
দ্বিতীয়ত, জন্ম থেকেই আমরা মন্দ ইচ্ছা নিয়ে জন্মেছি, যা আমাদেরকে ঈশ্বরের জীবন, জ্ঞান ও ভালোবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মন্দ ইচ্ছাই আমাদের মৃত্যু, অসুস্থতা, জুলুম, যুদ্ধ—এবং জীবনের সকল দুঃখের কারণ।
আমাদের মন্দ ইচ্ছাগুলো কীভাবে আমাদেরকে ঈশ্বর থেকে আলাদা করে দেয়?
অশুভের মূল হলো স্বার্থপরতা, যা সম্পর্ক নষ্ট করে। একজন স্বামী যত তার স্ত্রীর কাছে আসে, তত সহজে বুঝতে পারে তার কথা, কাজ আর চিন্তা কীভাবে তাকে কষ্ট দিতে পারে। ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও ঠিক এমনই। আমরা যত বেশি ঈশ্বরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হই, ততই আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের মন্দ কাজ কীভাবে তাঁর সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠতা ভেঙে দেয়।
আমরা ঈশ্বর থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম—সেজন্য তিনি কী করলেন?
ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে তাঁর সেই হারানো নিবিড় বন্ধুত্ব ফিরিয়ে আনতে চাইলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি মানুষ হয়ে এলেন।সেই মানুষই হলেন যীশু।
ঈশ্বরের জন্য মানুষ হয়ে আসা কেন জরুরি ছিল?
প্রথমত, আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মিশে যাওয়ার জন্য। দ্বিতীয়ত, আমাদের জীবনের আনন্দ, বেদনা ও লড়াই-সংগ্রাম নিজে অনুভব করার জন্য। তৃতীয়ত, আমাদের সব গুনাহের শাস্তি নিজের ঘাড়ে নিয়ে আমাদের হয়ে প্রাণ দেওয়ার জন্য। এবং চতুর্থত, পুনরায় জীবিত হয়ে আমাদের সব মন্দতা ও পাপ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করার জন্য, যাতে আমরা তাঁর সঙ্গে নিবিড় বন্ধুত্বে ফিরে আসতে পারি এবং এক অন্তহীন জীবন লাভ করতে পারি।
যীশু আমাদের জন্য প্রাণ দিতে রাজি ছিলেন একদিক থেকে এটা প্রমাণ করার জন্য যে, ঈশ্বর মন্দকে শাস্তি দেন। আমরা এমন কোনো স্রষ্টা চাই না যিনি অন্যায়কে বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেন। যীশুর মৃত্যু এই নিশ্চয়তা দেয় যে ঈশ্বর তা করবেন না, কারণ তিনি আমাদের গুনাহের শাস্তি নিজেই গ্রহণ করলেন, যদিও তিনি নিজে কোনো অন্যায় করেননি।
তবে তাঁর বড় উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মন্দ ইচ্ছা থেকে মুক্তি দেওয়া এবং আমাদের অন্তরকে বদলে দেওয়া, যাতে আমরা তাঁর সঙ্গে পূতপবিত্র এক বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি। পবিত্র বাইবেলে একেই বলা হয়েছে 'নতুন জন্ম' বা পুনর্জন্ম। এর অর্থ হলো সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া—মন্দ ইচ্ছার গোলামি থেকে মুক্ত হয়ে ঈশ্বরের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে জীবন যাপন।
তার মানে সুসংবাদটি কেবল আমাদের হয়ে যীশুর শাস্তি ভোগ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
বাইবেল বলছে, মৃত্যুর পর যীশু পুনরায় জীবিত হয়েছেন এবং আজও জীবিত আছেন। তিনি আমাদেরকে জীবনের একটি বিনিময় প্রস্তাব দিয়েছেন: আমাদের এই ভাঙাচোরা জীবনের বদলে তাঁর নিখুঁত জীবন। আমরা যখন এই চমৎকার প্রস্তাব গ্রহণ করি, তখন তাঁর পবিত্র আত্মা আমাদের অন্তরে বাস করতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে আমাদের মন্দ ইচ্ছাগুলোকে সরিয়ে তাঁর মহৎ পথে চলার ইচ্ছা বাড়িয়ে তোলে।
আমাদের এই পরিচ্ছন্ন ও পূর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় পাক-সাফ হওয়া (Sanctification)। এই দুনিয়ার জীবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা পুরোপুরি পূর্ণতা পাব না। তবে এই প্রক্রিয়ার জাগতিক শুভ ফল আমরা এখনই পেতে শুরু করব।
পবিত্র আত্মার ফল এগুলো: ভালোবাসা, আনন্দ, শান্তি, ধৈর্য, দয়া, মহত্ত্ব, নম্রতা, বিশ্বস্ততা ও আত্মসংযম। আমরা যদি খ্রীষ্টের অনুসারী হই, তবে আমাদের চরিত্রে এইসব গুণ দিন দিন বাড়তে থাকবে। আর আমরা যদি তা না হয়ে থাকি, তবে এখনই সময় ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণ করার এবং পবিত্র বাইবেল পাঠ, মন্দ থেকে দূরে সরে আসা, প্রার্থনা করা ও তাঁর উপাসনার মাধ্যমে তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার।
আমরা নিজের চেষ্টায় এই গুণাবলী বাড়াতে পারি না। কেবল পবিত্র আত্মা পারেন যখন আমরা যীশুর প্রতি আমাদের ভালোবাসা প্রকাশ করি।
বাইবেল বলছে, আমাদেরকে নিজেদের ক্রুশ তুলে নিয়ে যীশুর অনুসারী হতে হবে। এটি আসলে আমাদের ভেতরের স্বার্থপরতার মৃত্যুকে বোঝায়। যেমন যীশু নিজের ক্রুশ (একটি নির্যাতনের যন্ত্র!) নিজে বহন করেছিলেন এবং তাতে ঝুলে প্রাণ দিয়েছিলেন, আমাদেরও তেমনি নিজেদের স্বার্থপরতার মৃত্যুর মাধ্যমে প্রতীকীভাবে একই কাজ করতে হবে।
এটা কেন জরুরি? কারণ আমাদের স্বার্থপর ইচ্ছাগুলো ঈশ্বরের চাওয়ার বিরোধী। যীশু চান আমরা যেন পূর্ণ বিশ্বাসে নিজেকে সঁপে দিই। তিনি চান আমরা যেন স্বার্থপর বাসনার বদলে ঈশ্বরকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি। আমরা ঈশ্বর এবং তাঁর সৃষ্ট মানুষদের সেবা করার মাধ্যমেই আমাদের ভালোবাসা দেখাতে পারি।
যখন আমরা আত্মসমর্পণ করি এবং ঈশ্বরকেই জীবনের একমাত্র সন্তুষ্টি হিসেবে বেছে নিই, তখন তিনি আমাদের তাঁর হুকুম মানার শক্তি ও ইচ্ছা দান করেন। এটা যেন তাঁকে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের বাতাস হতে দেওয়া। শ্বাস নিন যীশুতে। শ্বাস ছাড়ুন যীশুতে। এটা বারবার করুন। প্রতিদিন। আমৃত্যু। এটাই আমাদের সাহস দেয় বিশ্বাস করতে যে যখন ঈশ্বর আমাদের শত্রুকেও ভালোবাসতে বলেন, তখন তিনি আমাদের তা করতে সাহায্য করবেন।
যীশুর সঙ্গে আমাদের এই সম্পর্ক আমাদের অনুভবে দুনিয়ার যেকোনো সম্পর্কের চেয়ে গভীর, কারণ তাঁর আত্মা আমাদের ভিতরে বাস করে। এই সম্পর্ক আপনার জীবন বদলে দেবে যখন আপনি ভালোবাসায় ঈশ্বরকে বিশ্বাস করতে ও তাঁর কথা মেনে চলতে থাকবেন। তারপর, যখন আপনি ভুল করবেন, তখন তিনি ঈশ্বরকে সম্মান করতে আপনাকে সাহায্য করবেন।
হয়তো ভাবছেন, এমন জীবন কি স্বাভাবিক জীবনের আনন্দ নষ্ট করবে। আমরা আনন্দচিত্তে জানাচ্ছি যে ঈশ্বরকে ভালোবেসে ও তাঁর পথে চলেই আমরা জীবনে ঈশ্বরের শান্তি ও পরম আনন্দ খুঁজে পেয়েছি।
যদিও আমরা কখনো মন্দ ইচ্ছা থেকে পুরোপুরি মুক্ত নই এবং এখনও ভুল করি, তবু যীশুর প্রতি আমাদের ভালোবাসা আমাদের মন্দ ইচ্ছাকে দুর্বল করে দেয়। ঈশ্বর এমনটা করেন যাতে আমরা তাঁর সঙ্গে আনন্দে থাকতে, এই দুনিয়া এবং তাঁর দেওয়া সম্পর্ককে পবিত্রভাবে উপভোগ করতে পারি।
ঈশ্বর যে আমাদের ইচ্ছা বদলে দিতে পারেন, এই ওয়াদায় বিশ্বাস রাখা অনেকের জন্য কঠিন। তিনি সত্যিই তা করেন। এটা বাস্তব। তা না হলে, এই সুসংবাদ কোনো সুসংবাদই হতো না।
আরও বেশি খ্রীষ্টের অনুসারী কেন ভালো জীবন যাপন করে না?
খ্রীষ্টের প্রত্যেক অনুসারী আসলে গুনাহ থেকে মুক্ত জীবন যাপন করতে পারতেন, কিন্তু অনেক সময় আমরা নিজেরাই তা চাই না। কখনও কখনও আমরা খ্রীষ্টের অনুসারী হওয়ার পরও যীশুর চেয়ে গুনাহকে বেছে নিই।
কেউ কেউ গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে পারে না কারণ তারা বিশ্বাসই করে না যে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, অথবা ঈশ্বর তা করেন। আবার কেউ কেউ মুক্তির পথে চলতে চায় না কারণ এর জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়। কারণ এর জন্য প্রয়োজন ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে ও প্রতিনিয়ত সমর্পণ করা।
এই কথার মানে কী?
ঈশ্বরের কাছে নিজেদের সঁপে দেওয়ার পর, আমাদের সবসময় সেই সমর্পণের উপর টিকে থাকার হুকুম দেওয়া হয়েছে। এটা প্রতিনিয়ত করা প্রয়োজন, কারণ আমাদের সবার মধ্যেই স্বার্থপরতার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা থাকে। বাইবেলে এই প্রবণতাকে গুনাহর ঝোঁক বা পাপী স্বভাব বলা হয়েছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের মধ্যে এই প্রবণতা বিদ্যমান থাকে।
আমরা যখন ঈশ্বরের উপর ভরসা ও বিশ্বাস রাখি, মন্দ কাজ থেকে ফিরে আসি, প্রার্থনা ও উপাসনা করি, পবিত্র বাইবেল পাঠ করি এবং খ্রীষ্টের অন্য অনুসারীদের সঙ্গে মণ্ডলীতে সময় কাটাই, তখন আমাদের ভেতরে থাকা যীশুর পবিত্র আত্মা আমাদের মনের ইচ্ছাগুলো বদলে দিতে শুরু করে এবং তা আমাদের সেই গুনাহর ঝোঁক থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি দান করে।
এই আত্মিক উন্নতি সময়সাপেক্ষ। এই প্রক্রিয়ায় কখনো আশা হারাবেন না। আবার উন্নতির গতি ধীর বলে একে অজুহাত বানিয়ে থেমে থাকবেন না।
ঈশ্বরকে সম্মান করলে এমন স্থায়ী আনন্দ ও শান্তি পাওয়া যায়, যা এই দুনিয়ার আর কোথাও নেই। আমরা মন্দ কাজ থেকে কেবল এই জন্য সরে আসি না যে মন্দ কাজ খারাপ; বরং আমরা মন্দ থেকে ফিরে আসি এজন্য যে ঈশ্বর তাতে তৃপ্ত হন।
ঈশ্বর আমাদের আহ্বান জানান যেন আমরা তাঁর মহিমা বা গৌরবের কাজে শরিক হই। তাঁর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার পর, তিনি আমাদের অন্তরে অন্যদের সঙ্গে এই চমৎকার বন্ধুত্বের কথা ভাগ করে নেওয়ার অনুপ্রেরণা দেন, যাকে বলা হয় ইভানজেলিজম বা সুসমাচার প্রচার। আর অনুপ্রেরণা দেন অন্যদের শেখাতে কীভাবে এটা উপভোগ করা যায়, যাকে শিষ্যত্ব বলা হয়।
তিনি আমাদের যা দান করেন তা এতটাই ভালো যে, যখন আমরা এর স্বাদ পাই, তখন তাঁর কথা অন্যদের না বলে আমরা থাকতে পারি না। যখনি আমরা আস্বাদন এবং দেখতে পারি যে আমাদের পালনকর্তা কত মহান, তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে তা জানাতে চাই, যাতে তারাও আমাদের মতো এই মুক্তি ও আনন্দের স্বাদ পেতে পারে।
পুনরায় বলছি, সেই সুসংবাদটি (সবচেয়ে সেরা সংবাদ!) হলো: আমরা যদি ভালোবাসা ও ভক্তি নিয়ে ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখি এবং তাঁর আনুগত্য করি, তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি আমাদের ভালোবাসবেন ও ক্ষমা করবেন, এবং আমাদের অনন্ত জীবন দেবেন, দেবেন পাপাচার থেকে মুক্তি, এবং তাঁর পরম সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য। আমরা যদি আমাদের জীবনের শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসে অবিচল থাকি, তবে ঈশ্বর আমাদের এক নতুন দেহ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই দেহ হবে সকল মন্দ ইচ্ছা, মৃত্যু এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত; যেখানে আমরা চিরকাল তাঁর সান্নিধ্যে বসবাস করব।
তবে দুঃসংবাদ হলো যারা ঈশ্বরের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবে, তারা সেই অনন্তকালের শাস্তি ও ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্নতার ভোগান্তি পোহাবে, যা আমরা আমাদের নিজেদের মন্দ কাজের মাধ্যমেই অর্জন করেছি।
ঈশ্বরের এই সুসংবাদ এবং তাঁকে অস্বীকার করার পরিণাম সংক্রান্ত দুঃসংবাদ এই উভয় দিকই সুসমাচারকে আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যে পরিণত করেছে।
আমাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্যই হলো ঈশ্বরের মহিমা ঘোষণা করা এবং অনন্তকাল তাঁর সান্নিধ্যে আনন্দে কাটানো। আমরা অনেক সময় মনে করি, আমাদের নিজেকে তুষ্ট করার জীবন আর ঈশ্বরের সন্তুষ্টি—এই দুটির মধ্যে হয়তো যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। কিন্তু সত্য হলো, মন্দ ইচ্ছার কাছে নিজেকে সঁপে দিলে তা আমাদের খুব বেশি সময়ের জন্য তৃপ্তি দেয় না। পাপের পথে চললে তা মানুষের মনে বিষণ্ণতা তৈরি করে, আত্মমর্যাদা নষ্ট করে এবং ধ্বংসাত্মক, খারাপ অভ্যাসের গোলামে পরিণত করে। মন্দ কাজ আমাদের উপর রাজত্ব করে, আমাদের আনন্দ কেড়ে নেয় এবং আমাদের নিঃস্ব ও একা করে দেয়। এটা আমাদের গোলামে পরিণত করে।
যখন আমরা পাপাচারের গোলামি ছেড়ে ঈশ্বরের মহত্ত্বের ইচ্ছুক সেবক হিসেবে নিজেদের দেখব বলে ঠিক করি, তখন আমাদের জীবনে ঈশ্বরের উপস্থিতি এবং সুসমাচারে তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুত মহান উপহারসমূহ আমাদের এমন এক অনাবিল আনন্দ ও মুক্তি দান করে, যা কেউ কোনোদিন কেড়ে নিতে পারবে না।
এর জন্য প্রয়োজন সবকিছু। আমাদের জীবনের সকল নাফরমানি তাঁর হাতে সঁপে দিয়ে বিনিময়ে গ্রহণ করা তাঁর অফুরন্ত ক্ষমা, নতুন জীবন এবং ভালোবাসাপূর্ণ দয়া।
এটা মনে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নাজাতের কবিতা:
ঈসা তুমি সলীবে কোরবানী হলে
পাপীদের বাঁচাতে আবার উঠিলে
ক্ষমা কর যত গোনাহ আমার
এস বন্ধু হও নাজাতদাতা আমার
বদলে দাও কর নতুন আমায়
সাহায্য কর বাঁচতে তোমায়।
গভীরে অনুসন্ধান করুন
যোহন অধ্যায় ১৭ পড়ুন, যেখানে যীশুর একটি প্রার্থনা লিপিবদ্ধ আছে, যা তিনি তাঁর মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে সরাসরি আপনার ও আমার জন্য করেছিলেন। পড়ার সময় যীশুর কথাগুলোর মধ্যে আপনার কাছে যা যা আকর্ষণীয় বা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তা লিখে রাখুন। এরপর আপনার মনে জাগা যেকোনো প্রশ্ন নিয়ে খ্রীষ্টের অন্য কোনো অনুসারীর সঙ্গে আলোচনা করুন। যীশু আপনার জন্য প্রার্থনা করেছেন, এই বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছে কেমন লাগে?