পাঠ ৮

বাইবেলকে ঈশ্বরের বাণী বলা হয়, কারণ এটি ঈশ্বরেরই মাধ্যম যার দ্বারা তিনি ব্যাখ্যা করেন তিনি কে, আমরা কারা, আমরা কোথা থেকে এসেছি এবং কেন আমাদের এই অস্তিত্ব। এটি বেশ জটিল একটি বিষয়। আমরা যদি হুট করে বাইবেলের যেকোনো একটি জায়গা খুলে পড়া শুরু করি, তবে সম্ভবত বিভ্রান্ত হয়ে পড়ব। এর কারণ হলো, বাইবেল আসলে ৬৬টি আলাদা আলাদা বইয়ের সমষ্টি, যা প্রায় ২,০০০ বছর ধরে বিভিন্ন লেখকের দ্বারা লিখিত হয়েছে।

বাইবেলের এই বইগুলো ঈশ্বর কর্তৃক অনুপ্রাণিত। শুধু তাই নয়, ঈশ্বর নিশ্চিত করেছেন যে এই বইগুলোর বিষয়বস্তু সত্য এবং এগুলো তাঁরই কাছ থেকে এসেছে। এর অনেকগুলো বইই বিশেষ বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য পাঠানো হয়েছিল। আদি মণ্ডলী এই বইগুলো সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ডে সাজিয়েছেন, যাকে আমরা এখন বাইবেল বলি। একত্রে এগুলো দেখায় যে ইতিহাসের পরিক্রমায় ঈশ্বর মানুষের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

বাইবেলের বইগুলো বিভিন্ন লেখনশৈলীতে লেখা। উদাহরণস্বরূপ, গীতসংহিতা হলো মূলত, গান ও প্রার্থনার বই। এটি এমন সব রূপক দিয়ে ঠাসা যার সবটুকুই আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার জন্য নয় অন্যদিকে, যোহন লিখিত সুসমাচার হলো যীশুর জীবনের উপর ভিত্তি করে একটি ঐতিহাসিক কাজ।

আবার গালাতীয় ও ইফিষীয় এর মতোই পত্রাবলি ছিল আদি মণ্ডলীর নেতাদের লেখা চিঠি, যা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল।

এছাড়া ভবিষ্যৎবাণীমূলক বইও আছে, যেমন ইশাইয়া এবং প্রকাশিত বাক্য—এটি একটি দীর্ঘ ও জটিল ভবিষ্যৎবাণী যা মূলত আদি খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর জন্য লেখা হয়েছিল।

আরও অনেক কিছু আছে, তবে মূল বিষয়টি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।

বাইবেল দুটি প্রধান নিয়ম বা ট্যাস্টামেন্টে বিভক্ত। পুরাতন নিয়ম গঠিত হয়েছে যীশুর জন্মের আগে লেখা বইগুলো নিয়ে, আর নতুন নিয়ম গঠিত হয়েছে তাঁর জন্মের পর লেখা বইগুলো নিয়ে।

বাইবেলের প্রথম পাঁচটি বই (পঞ্চপুস্তক) ইস্রায়েলীয়দের দ্বারা এবং তাদের জন্যই লেখা হয়েছিল, যেখানে দুনিয়ার সৃষ্টি, তাদের প্রতি ঈশ্বরের ওয়াদা এবং একটি জাতি হিসেবে তাদের গড়ে ওঠার ইতিহাস ব্যাখ্যা করা যায়।

পুরো বাইবেল জুড়ে ঈশ্বর এবং মানুষের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি বা অঙ্গীকারের কথা আছে। এগুলোকে বলা হয় 'কভেন্যান্ট' বা নিয়ম। আজ আমরা যীশুর দেওয়া নতুন নিয়মের অধীনে বাস করছি। এর অর্থ হলো, আমাদের জন্য লেবীয় বা দ্বিতীয় বিবরণ-এর মতো বইগুলোতে বর্ণিত সেইসব আনুষ্ঠানিক বিধান পালন করা বাধ্যতামূলক নয়, যা ইহুদি জাতির সঙ্গে ঈশ্বরের পুরাতন চুক্তির অংশ ছিল। সেই আইনগুলো ছিল যীশুর আগমনের প্রতীকী ইঙ্গিত; তাই তাঁর জীবন ও কোরবানির মাধ্যমে সেই নিয়মগুলো পূর্ণতা পেয়েছে।

যদি এসব শুনে আপনার মাথা ঘোরে বা কঠিন মনে হয়, তবে কিছুক্ষণ বিরতি নিন এবং বুক ভরে শ্বাস নিন। উৎসাহ হারাবেন না, কারণ এখনই আপনাকে সব বুঝে ফেলতে হবে না!

বাইবেল এমন কিছু নয় যা আপনাকে কেবল যান্ত্রিক কর্তব্যের খাতিরে পড়তে হবে। বরং এটি এমন কিছু যা পড়ার সুযোগ পাওয়া একটি বিশেষ সৌভাগ্য। এটি আপনার জন্য আনন্দের উৎস হওয়ার কথা—যা আপনি সারা জীবন ধরে পড়বেন, অধ্যয়ন করবেন এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করবেন। এটি এমন এক ভাণ্ডার যা আপনার মন ও অন্তরকে বদলে দেবে।

বাইবেলের কিছু অংশ অন্যগুলোর চেয়ে বোঝা সহজ। আমরা পরামর্শ দেব যে আপনি আদিপুস্তক (বাইবেলের প্রথম বই) এবং অন্তত একটি সুসমাচার (মথি, মার্ক, লূক বা যোহন) দিয়ে পড়া শুরু করুন।

সেখান থেকে যাত্রাপুস্তক, প্রেরিত এবং নতুন নিয়মের পত্রাবলি পড়া যুক্তিযুক্ত হতে পারে।

রোমীয় এবং ইবরীয় এই দুটি বই পড়া কিছুটা কঠিন, তবুও এগুলো যীশুর নতুন চুক্তি এবং পুরাতন নিয়মের চুক্তির মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে দারুণ সাহায্য করে।

বাইবেলে অনেক চমৎকার ও আকর্ষণীয় কাহিনী আছে। আবার ইহুদিদের বিস্তারিত বংশতালিকা এবং জটিল নিয়ম-কানুনের অংশও আছে। তবে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, বাইবেলের প্রতিটি অংশের একটি ভালো উদ্দেশ্য আছে এবং তা অধ্যয়ন করা সার্থক; কারণ এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে আমরা আসলে কে, ঈশ্বর আসলে কে এবং কীভাবে জীবন কাটাতে হবে। এটি আমাদের মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে। তাই যা কিছু আপনাকে নিয়মিত বাইবেল পড়া থেকে দূরে রাখে, সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আপনার ফোন, ভিডিও গেম ইত্যাদি।

আপনার কাছে যদি কোনো বাইবেল না থাকে, তবে একটি সংগ্রহ করে নিন।

পুরো এক বছরে বাইবেল পড়া শেষ করার অনেক পড়ার-পরিকল্পনা আছে, যা আপনাকে প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়তে সাহায্য করবে।

আপনি চাইলে বেশিও পড়তে পারেন। তবে ঈশ্বরের বাণী গভীরভাবে উপভোগ করার দিকে মনোযোগ দেওয়া বেশি ভালো। এটি উৎসাহ ও প্রজ্ঞার এক নিরন্তর উৎস। আর আপনার খ্রীষ্টীয় জীবন যাপনের সক্ষমতা সরাসরি নির্ভর করে আপনি কতটা নিয়মিতভাবে আপনার মন ও প্রাণ দিয়ে বাইবেলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তার উপর।

ঈশ্বরের কাছে সাহায্য চান, যেন বাইবেল বুঝতে পারেন। তাঁর হুকুমগুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করতে তাঁর কাছে সাহায্য চান। এটি পড়া বা শোনার বিষয়ে গাফিলতি করবেন না। নিজেকে এটি ভুলে যেতে দেবেন না। আপনি হয়তো নিজেকে খুব একটা পড়ুয়া মানুষ মনে করেন না, কিন্তু বাইবেল খুব দ্রুতই আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে, কারণ এটি আপনার প্রতি ঈশ্বরের পক্ষ থেকে পাঠানো বাণী।

গভীরে অনুসন্ধান করুন

একটি বাইবেল সংগ্রহ করুন, 'এক বছরে বাইবেল খতম' করার একটি পাঠ-পরিকল্পনা খুঁজে নিন এবং সেই অনুযায়ী নিয়মিত পাঠ শুরু করুন।

পূর্ববর্তী List List পরবর্তী