পাঠ ৯

প্রার্থনা হলো ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলা।

মথি ৬:৯-১৩ পদে যীশু 'প্রভুর প্রার্থনা'র মাধ্যমে এর একটি সহজ উদাহরণ শিখিয়েছেন। তাঁর এক বন্ধু যখন জানতে চেয়েছিলেন কীভাবে প্রার্থনা করতে হয়, তখন তিনি এই প্রার্থনাটি শিখিয়েছিলেন।

বন্ধুর সঙ্গে যেমন নানা ধরনের আলাপ হয়, প্রার্থনারও তেমনি নানা ধরন আছে। আমরা অন্যের জন্য প্রার্থনা করতে পারি। আবার নিজেদের জন্য করতে পারি। আমরা ঈশ্বরের কাছে সুরক্ষা, আরোগ্য, শক্তি এবং প্রজ্ঞা চাইতে পারি। ঈশ্বরের দয়া, রহমত ও ক্ষমার জন্য আমরা তাঁর শোকরগুজারি করতে পারি। আমরা তাঁকে বলতে পারি আমরা কী ভালোবাসি। আর তিনি আমাদের যা দিয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে পারি। এমনকি আমাদের দুশ্চিন্তা, ভয়, সন্দেহ এবং মনের প্রশ্নের কথাও তাঁকে জানাতে পারি।

এর প্রতিটিই ভালো!

ঈশ্বর চান আপনি যেন সততার সাথে প্রার্থনা করেন। তিনি আপনার মনের খবর জানেন। তাই পুরো অন্তর দিয়ে প্রার্থনা করুন। তাঁর কাছে বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও ভরসা নিয়ে হাজির হোন।

আপনি হাত তুলে প্রার্থনা করতে পারেন, অথবা কোলের উপর হাত রেখে বা হাত জোড় করে দোয়া করতে পারেন। চোখ খোলা রেখে বা বন্ধ রেখে যেকোনো অবস্থায় প্রার্থনা করা যায়। হেঁটে, দাঁড়িয়ে, বসে, নতজানু হয়ে কিংবা শুয়ে যেকোনো অবস্থায় প্রার্থনা করা যায়। সকালে, বিকেলে, দুপুরে কিংবা সারা দিনই আপনি প্রার্থনা করতে পারেন।

পণ্ডিতি জাহির করার চেষ্টা করবেন না। আলংকারিক শব্দে ঈশ্বর মুগ্ধ হন না। তিনি আপনার চেয়ে বেশি জানেন, তাই শুধু নিজের আসল রূপটি প্রকাশ করুন। ঈশ্বরের প্রতি আদব বা সম্মান বজায় রেখে নিজের মতো করে কথা বলুন। বিশ্বাস রাখুন যে তিনি আপনার কথা শুনতে চান এবং তিনি সত্যিই আপনার সঙ্গে থাকতে ভালোবাসেন।

একা একা প্রার্থনা করুন এবং অন্যদের সঙ্গে মিলেও প্রার্থনা করুন। একত্রে প্রার্থনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ! এটি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে এবং ঈশ্বর এতে সন্তুষ্ট হন।

যারা উচ্চস্বরে প্রার্থনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের দেখে ঘাবড়ে যাবেন না। প্রার্থনা আমাদের নিজেদের জাহির করার জন্য নয়। বরং ঈশ্বরের কাছে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে তাঁর আরও নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম। যদি কেউ আপনার প্রার্থনার ধরন দেখে আপনাকে তুচ্ছজ্ঞান করে, সেটা আপনার চেয়ে বরং সেই লোকটাকেই উন্মোচন করে। এতে তার অহংকার প্রকাশ পায়; আর অহংকার একটি মন্দ গুণ।

প্রত্যেক খ্রীষ্টানের উচিত প্রার্থনার নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলা। এর অর্থ হলো, প্রতিদিন প্রার্থনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা। আপনি যদি তা না করেন, তবে প্রার্থনা ধীরে ধীরে আপনার জীবন থেকে হারিয়ে যেতে পারে। যদি আপনার আগে থেকে নির্দিষ্ট সময়ে প্রার্থনার অভ্যাস না থাকে, তবে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট নির্দিষ্ট করে শুরু করুন। দিনের কাজ শুরু করার আগে ভোরে সময় নির্ধারণ করা সবচেয়ে ভালো। কারণ রাতে হয়তো আপনি ক্লান্ত বা ব্যস্ত থাকতে পারেন, বা আপনার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। প্রার্থনা আপনার পুরো দিনটিকে একটি সুন্দর মোড় দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আপনার প্রার্থনার সময়টিকে কয়েক ভাগে ভাগ করে নিতে পারেন। প্রার্থনার একটি পরিকল্পনা লিখে রাখা বেশ কাজের হতে পারে, যাতে প্রার্থনার সময় খেই হারিয়ে না ফেলেন।

এখানে একটি নমুনা দেওয়া হলো: প্রথমে নিজের ভুলগুলো স্বীকার করুন এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান। এরপর কয়েক মিনিট তাঁর দয়া, ক্ষমা, কোমলতা ও ভালোবাসার জন্য শোকরগুজারি করুন। আরও কিছুক্ষণ তাঁর বিশ্বস্ততা ও শক্তির প্রশংসা করুন। আপনার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের জন্য প্রার্থনা করুন। কিছুক্ষণ নীরব থেকে ঈশ্বর আপনার অন্তরে কী বলেন তা শোনার চেষ্টা করুন। সবশেষে, বাকি সময়টুকু নিজের জন্য ঈশ্বরের কাছে শক্তি ও সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করুন।

আপনি বাইবেলকেও প্রার্থনার গাইড হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, বাইবেলের কোনো অংশ পড়ার পর তা নিয়ে ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলুন এবং যা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে তা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্য চান।

ভালো অভ্যাস গড়ে উঠতে সময় লাগে। তাই ধৈর্য ধরুন। নিজের উপর আস্থা রাখুন। তবে অলসতাও করবেন না।

প্রতিদিন নিয়মিত ১৫ মিনিট প্রার্থনা করার পর অনেকেই দেখেন যে তারা প্রার্থনার সময় আরও বাড়াতে চাইছেন। এটা দারুণ ব্যাপার! তবে সময়কে বিভিন্ন বিষয়ে ভাগ করে নেওয়া সবসময়ই উপকারী। এতে বিরক্তি বা একঘেয়েমি আসে না।

প্রার্থনা একটি সচেতন প্রচেষ্টা। ভালোবাসার মতোই এটি বাস্তব হতে হলে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।

আপনি যদি চেষ্টা করেন, তবে দেখবেন এক ঘণ্টা প্রার্থনা করা কেবল সম্ভবই নয় বরং অত্যন্ত আনন্দদায়কও! কারণ আমাদের প্রার্থনার দরকার আছে। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে ঈশ্বরের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের জন্য আমাদের প্রাণ তৃষ্ণার্ত থাকে। এই গভীর সম্পর্কই আমাদের বদলে দেয়।

ঈশ্বর আমাদেরকে প্রার্থনার জন্য আহ্বান করেন। তিনি চান আমরা যেন তাঁর সঙ্গে কথা বলি। ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলা আমাদের আত্মাকে এমনভাবে তৃপ্ত করে যা অন্য কিছু পারে না। যখন আমরা প্রার্থনা করতে অবহেলা করি, তখন আসলে আমরা নিজেদের ও আমাদের প্রিয়জনদেরই অবহেলা করি। আসুন ঈশ্বরের সঙ্গে সময় কাটাই, যাতে তিনি আমাদের প্রতিদিন শক্তি ও সাহস যোগান!

তিনি তাঁর সান্নিধ্য দিয়ে আমাদের তৃপ্ত করতে ভালোবাসেন। তিনি আপনার সান্নিধ্য চান, যেন আপনি তাঁকে চিনতে পারেন এবং তাঁর পবিত্র সাহচর্য উপভোগ করতে পারেন।

দিনের একটা সময় ঈশ্বরের সান্নিধ্যে কাটানোর জন্য বরাদ্দ করুন, নয়তো জাগতিক ব্যস্ততা আপনাকে তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। প্রার্থনায় অবহেলা করলে আপনি হতাশ ও একাকী হয়ে পড়বেন এবং গুনাহের দিকে ঝুঁকে পড়বেন। কিন্তু আপনি যদি নিষ্ঠার সাথে দোয়া করেন, তবে ঈশ্বর আপনাকে আপনার কল্পনার চেয়েও বেশি উত্তম প্রতিদান দেবেন।

আপনি কি জানেন যে স্বয়ং ঈশ্বর আপনার জন্য প্রার্থনা করেন?

গভীরে অনুসন্ধান করুন

আপনি নিচের প্রতিটি বিষয়ের জন্য পাঁচ মিনিট করে সময় নিয়ে প্রার্থনা করুন: প্রশংসা ও মহিমা কীর্তন; নিজের গুনাহ স্বীকার; একটি গীতসংহিতা পাঠ; তাঁর শোকরগুজারি বা কৃতজ্ঞতা; উপাসনা; তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলবেন এই আশায় কিছুক্ষণ নীরব থেকে অপেক্ষা; ব্যক্তিগত আরজি ঈশ্বরের কাছে পেশ করা; অন্যদের জন্য প্রার্থনা; গীতসংহিতা ২৩ অথবা প্রার্থনার উপযোগী অন্য কোনো গীতসংহিতা পড়ে প্রার্থনা; ঈশ্বরের সত্তা ও তাঁর গুণাবলি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা; তাঁর মতো হওয়ার জন্য তাঁর কাছে শক্তি প্রার্থনা; আর সবশেষে আবারও তাঁর প্রশংসা গেয়ে শেষ করুন।

পূর্ববর্তী List List পরবর্তী