পাঠ ৬
যীশু খ্রীষ্টের পথে আপনার যাত্রা শুরু হয়ে থাকলে এই বিশ্বাসে অটল থাকুন যে তিনি আপনার সঙ্গেই আছেন। কারণ পথ চলতে গিয়ে আপনি শীঘ্রই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন।
যখনই আপনি উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন, তখন মনে রাখবেন যে ঈশ্বর সবকিছুর চেয়ে বেশি শক্তিশালী—এমনকি আপনার দুর্বলতার চেয়েও। বিশ্বাস রাখবেন যে তিনি আপনার জীবনকে বদলে দিচ্ছেন, আপনাকে এক নতুন মানুষ রূপে গড়ে তুলছেন।
যখন আমরা ব্যর্থ হই এবং নিজেদের অসহায় ভেবে হতাশ হতে প্ররোচিত হই, তখন আমাদের মনে রাখা দরকার যে আমাদের এই আত্মিক বৃদ্ধি আমাদের নিজেদের ভালো গুণের কারণে ঘটছে না (আমাদের আসলে তেমন ভালো গুণ নেই), বরং যীশুর প্রতি আমাদের বিশ্বাস, তাঁকে ভালোবাসা, সম্মান ও মেনে চলার চেষ্টার মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের ভেতরে কাজ করছেন বলেই আমরা বেড়ে উঠছি।
খ্রীষ্ট কি এই মুহূর্তে আমাদের কোনো মন্দ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী? নিঃসন্দেহে! আমাদের জীবনের প্রতিটি ভালো জিনিস তাঁর কাছ থেকেই আসে। আমাদের ভালো আচরণ মূলত তাঁরই শক্তিতে পরিচালিত হয়। কারণ আমাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা ও প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই তিনি আমাদের জীবনে কাজ করেন।
আর তিনি কী আপনাকে মন্দ থেকে রক্ষা করতে অবিচল? নিঃসন্দেহে!
তাহলে আমরা নিজেদের এত অক্ষম ভাবি কেন? কারণ তিনি আমাদের নিজেদের দুর্বলতা অনুভব করতে দেন, যেন আমরা তাঁর উপর নির্ভর করতে শিখি। আপনার দুর্বলতা যেন আপনাকে ধোঁকা দিতে না পারে। বরং এই দুর্বলতাকেই ঈশ্বরকে নিজের শক্তি হিসেবে ভরসা করার কারণ হয়ে উঠতে দিন।
তাহলে, কোন কোন বিষয় ঈশ্বরের উপর থেকে আমাদের বিশ্বাস কেড়ে নেয়? যখন আমরা হঠাৎ সন্দেহ করতে শুরু করি যে আমাদের মধ্যে অনুগত থাকার মতো শক্তি আর নেই, তখন আসলে ঠিক কী বদলে যায়?
আসলে আমরা ভুলে যাই ঈশ্বর কে। আমরা ভুলে যাই তাঁর মধ্যে আমাদের পরিচয় কী। তিনি যে আমাদের মন্দ পথ বেছে নেওয়া থেকে রক্ষা করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী, সেই বিশ্বাসে আমরা টলে যাই। আর সত্যি বলতে, আমরা আমাদের অন্তরকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে অন্য জিনিসের দিকে ধাবিত হতে দিই।
এই শেষ ভুলটিই সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতিটি মন্দ কাজের শুরু হয় খ্রীষ্টের কাছ থেকে আমাদের অন্তরকে বিচ্যুত হতে দেওয়ার মাধ্যমে। আর এই কারণেই প্রতিদিন বাইবেল পাঠ, প্রার্থনা এবং ইবাদতের নিরলস অভ্যাস গড়ে তোলা এত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা খুব সহজেই বিভ্রান্ত হই এবং আমাদের স্মৃতিশক্তিও খুব স্বল্পস্থায়ী।
আমরা কখনোই ভুলে যেতে পারি না যে ঈশ্বরই আমাদের জীবন। নাজাতের কবিতায় এই কথাই বলা হয়েছে: 'বদলে দাও কর নতুন আমায়।' এখানে স্বীকার করা হয়েছে যে খ্রীষ্টকে জানার পর আমাদের জীবন আর কখনোই আগের মতো থাকবে না। আর এর শতভাগ কারণ তিনি নিজেই—অর্থাৎ তিনি আসলে কে।
আপনার কি এমন কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্য আছে যাকে আপনি পাগলের মতো ভালোবাসেন? কেন তাকে ভালোবাসেন? আপনি খুব ভালো মানুষ, এজন্যই কি তাকে ভালোবাসেন?
একবার একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কি ভালো মানুষ বলেই তাঁর স্ত্রীকে ভালোবাসেন? এই প্রশ্নে তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত ও বিরক্ত হলেন। তিনি উত্তর দিলেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে ভালোবাসেন কারণ তাঁর স্ত্রী অসাধারণ একজন মানুষ! স্ত্রীর প্রতি তাঁর এই ভালোবাসার সঙ্গে তিনি নিজে ভালো মানুষ কি না, তার কোনো সম্পর্কই ছিল না। আসলে তিনি জানতেন যে তিনি নিজে ভালো মানুষ নন। আর এই কারণেই তিনি তাঁকে আরও বেশি করে ভালোবাসতেন, কারণ তাঁর মধ্যে ভালো গুণের অভাব থাকা সত্ত্বেও তাঁর স্ত্রী তাকে ভালোবেসেছিলেন।
যীশুর প্রতি আমাদের ভালোবাসাও ঠিক তেমনই। আমরা কতটা ভালো তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তাঁকে ভালোবাসি কারণ তিনি অত্যন্ত মহান। তাঁর অনুপম গুণাবলী নিয়ে প্রতিদিন আমাদের চিন্তা করা উচিত, যতক্ষণ না তাঁর প্রতি ভালোবাসা আমাদের অস্থিমজ্জায় মিশে যায়।
তিনটি কাজের চর্চা এই ভালোবাসা বাড়ায়: বাইবেল পাঠ, প্রার্থনা ও উপাসনা।
এগুলোতে কাজ হয় কী না তা নিয়ে আপনার সন্দেহ হয়?
তাহলে ঈশ্বরের সেইসব ওয়াদার কথা পড়ুন যেখানে তিনি বলেছেন, তিনি আপনাকে কখনো ত্যাগ করবেন না বা ছেড়ে যাবেন না। তিনি আপনার মধ্যে যে নেক কাজ শুরু করেছেন, তা তিনি নিজেই পূর্ণতা দেবেন। আপনি যখন তাঁর থেকে বিমুখ ছিলেন, তখনও তিনি আপনাকে ভালোবেসেছেন এবং তাঁর একান্ত নিজের করে নেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন। আপনার নিজের অবিশ্বাস এবং ইচ্ছাকৃত গুনাহর কাজ ছাড়া আর কোনো কিছুই আপনাকে তাঁর ভালোবাসা থেকে আলাদা করতে পারবে না। কারণ তিনি আপনাকে মাফ করেছেন এবং কবুল করে নিয়েছেন।
যখন আপনার মনে সন্দেহ জাগে যে তিনি আপনার অন্তরকে নতুন করে বদলে দিচ্ছেন কি না, তখন নিজেকে মনে করিয়ে দিন যে তিনি তাঁর পবিত্র বাণীর মাধ্যমেই তা করেন। যখন আপনার মনে হবে যে মন্দকে ত্যাগ করার শক্তি আপনার নেই, তখন সেই সময়ের কথা মনে করুন যখন তিনি অতীতে আপনাকে মন্দকে জয় করার শক্তি দিয়েছিলেন। যখন আপনার মনে হবে যে আপনি তাঁকে ভালোবাসতে পারছেন না, তখন নিজেকে বলুন যে তিনি এতটাই মহান যে তাঁকে না ভালোবেসে থাকা যায় না। আর যখন আপনি ভালো কিছু করার সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান হবেন, তখন মনে করুন যে আপনার জীবনের প্রতিটি ভালো জিনিস তাঁর কাছ থেকেই আসে।
যীশু আপনাকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছেন, নতুন করে গড়ে তুলছেন—এই বিশ্বাস রেখে বিনয়, ভালোবাসা ও বাস্তব আনুগত্যের পথে চলুন।
ঈশ্বরের আত্মা আমাদের ভেতরে বাস করেন এবং পরম মমতায় আমাদের এমনভাবে বদলে দেন যা হয়তো আমরা টেরও পাই না। একটি অনাগত শিশু যেভাবে তার মায়ের রক্তধারার অংশীদার হয়, আমরাও ঠিক সেভাবেই তাঁর জীবনের অংশীদার। মা ও শিশু আলাদা মানুষ হলেও তাদের জীবন এক অপূর্ব বন্ধনে মিশে থাকে। একইভাবে পবিত্র আত্মা যীশুর রক্তধারার মাধ্যমে আমাদের আত্মাকে জীবনদান করেন।
আমরা যখন প্রার্থনা ও ইবাদত করি, তখন আমাদের অন্তরে তাঁর আত্মাকেই অনুভব করি। আমাদের ভেতরে তাঁর আত্মার উপস্থিতির এই অনুভূতিটি দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুভব। আমাদের ভেতরে তাঁর আত্মার অস্তিত্বের এই নিরন্তর উপস্থতি ছাড়া আমরা দুর্বল। কিন্তু যখন তিনি সঙ্গে থাকেন, তাঁর আত্মা আমাদের এমন শক্তি দেয় যা অন্য কিছু দিতে পারে না।
গভীরে অনুসন্ধান করুন
রোমীয় ১২:১-২১ পড়ুন। যখন আমরা সত্যিকার বিশ্বাসে আমাদের জীবন ঈশ্বরের কাছে সঁপে দিই তখন আমাদের জীবনে যে পরিবর্তন আসে তা এই অংশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আত্মিক নতুনত্ব বা নতুন ভাবে গড়ে উঠা আসলে-শুনতে কেমন, এটা তার একটি ঝলক দেয়। ঈশ্বর আপনাকে কীভাবে নতুন করে গড়ে তুলছেন, তা লিখুন এবং অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন। এই মুহূর্তে তিনি আপনার জীবনের কোন ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কাজ করছেন? তিনি কতখানি ধৈর্যের সাথে আপনাকে আত্মিক বৃদ্ধি ও পরিপক্কতার পথে নিয়ে চলছেন, তা ভেবে দেখুন। তিনি যে আপনার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান ও দয়ালু, তার প্রমাণ কি আপনি দেখতে পাচ্ছেন?