পাঠ ৩
আমাদের আশার সবচেয়ে বড় কেন্দ্রবিন্দু হলো এই বিশ্বাস যে যীশু মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং তিনি চিরকাল জীবিত। যদি তিনি মৃতই থাকতেন, তবে আমরা তাঁর জীবনকে অনুভব করতে পারতাম না। অথচ আমাদের ভেতরে তাঁর আত্মার উপস্থিতি তাঁর দেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার।
ঈশ্বরের সান্নিধ্য আমাদের জীবনে সম্ভব হয়েছে অংশত এই কারণে যে তাঁর কোরবানী তাঁর চোখে আমাদেরকে পবিত্র করেছে, তবে তা পূর্ণতা পেয়েছে মৃত্যু থেকে তাঁর পুনরুত্থান এবং স্বর্গে ও আমাদের অন্তরে তাঁর চিরন্তন উপস্থিতির মাধ্যমে। এভাবেই আমাদের মৃত্যুর পর চিরকাল বেঁচে থাকার ওয়াদা করা হয়েছে; কারণ তখন আমাদের এই নশ্বর ও অপূর্ণ জীবন শেষ হয়ে যাবে এবং আমরা লাভ করব তাঁর অন্তহীন জীবন।
যীশু প্রকৃত অর্থেই ঈশ্বর এবং প্রকৃত অর্থেই একজন মানুষ। প্রথম মানব ও মানবী আদম ও হাওয়াকে চিরকাল বেঁচে থাকার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁদের মন্দ ফয়সালা তাদের মৃত্যু ঘটিয়েছে। এই পাপাচার বা মন্দ কাজই আমাদেরও মৃত্যু ঘটাবে। মন্দ কাজের কারণেই আমরা সবাই মৃত্যুবরণ করি, কিন্তু যীশু চিরকাল জীবিত থাকেন কারণ তিনি কখনো কোনো মন্দ কাজ করেননি। এটিই প্রমাণ করে যে তিনিই ঈশ্বর, কারণ একমাত্র ঈশ্বরই পরিপূর্ণ।
যীশু মৃত্যুবরণ করলেও কোনো পাপ বা মন্দ কাজ তাঁকে মারতে পারেনি। তিনি স্বেচ্ছায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন আর মৃত্যু তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি কারণ তিনি কখনো কোনো গুনাহ বা ভুল করেননি। তাঁর নিষ্কলুষ পবিত্রতা তাঁকে নিজের জীবন পুনরায় ফিরে পাওয়ার অধিকার দান করেছে।
আর তিনি ঠিক সেটাই করেছেন।
যীশু পুনরায় জীবনে ফিরে এসেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি তাঁর কুদরত (ক্ষমতা), ঐশ্বরিকতা, নিখুঁত মানবতা এবং আমাদের জীবন দান করার ও মৃত্যু থেকে ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য দেখিয়েছেন। তবে এর চেয়েও বড় হলো, তিনি ফিরে এসেছেন যাতে আমরা চিরকাল তাঁর সঙ্গে গভীর বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে পারি।
আসুন, বিষয়টা নিয়ে একটু চিন্তা করি।
আমাদের কখনো একাকী মনে করার দরকার নেই, কারণ তিনি আমাদের অন্তরে বাস করেন। প্রত্যেক দিন প্রতি মুহূর্তে আমরা তাঁর সান্নিধ্য পেতে পারি। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে পারি এবং আমাদের হৃদয়ে তাঁর আবেগের স্পন্দন অনুভব করতে পারি। তিনি আমাদের মনের সব চিন্তা জানেন এবং আমাদের ভালোবাসেন। তিনি আমাদের পবিত্র জীবনযাপন করার শক্তি দান করেন। আমরা তাঁর ভালোবাসা, আনন্দ, শান্তি, ধৈর্য, দয়া, মহত্ত্ব, নম্রতা, বিশ্বস্ততা ও আত্মসংযমের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতে পারি। আমরা যখন তাঁর আশ্রয়ে নিজেদের জীবন খুঁজে পাই, তখন তিনি আমাদের এক পরিপূর্ণ জীবন দান করেন।
বাইবেল বলছে, আমাদের অস্তিত্বের মূল উদ্দেশ্যই হলো যীশুর সঙ্গে এক নিবিড় সম্পর্ক নিয়ে বেঁচে থাকা। এই পৃথিবীর অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে তাঁর বেশি নিকটবর্তী হয়ে থাকা। যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তির চেয়ে তাঁকে বেশি ভালোবাসা। আর চিরকাল সানন্দে তাঁর আনুগত্য ও ইবাদত করা।
যেহেতু আমাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্যই হলো যীশুকে ভালোবাসা এবং তাঁর সান্নিধ্যে থাকা, তাই বাইবেলে খ্রীষ্টের অনুসারীদের ‘খ্রীষ্টের কনে’ বলা হয়েছে। বাইবেল আরও বলে, যে কেউ তাঁকে অস্বীকার করবে সে দণ্ডিত হবে। আমাদের শেষ গন্তব্য হলো যীশুর সান্নিধ্য। যারা যীশুকে ঘৃণা করে তারা কখনোই তাঁর সান্নিধ্যে পৌঁছাবে না; বরং তারা চিরকালের জন্য তাঁর থেকে পৃথক হয়ে পড়বে।
এটি এমন এক ভয়াবহ পরিণাম যা খুব কম মানুষই কল্পনা করতে পারে। অনেকেই উপলব্ধি করেন না যে, আমাদের জীবনের সমস্ত সজীবতা ও আনন্দ ঈশ্বরের পক্ষ থেকেই আসে। দুনিয়াতে আমরা যে সাধারণ সুখ-শান্তি ভোগ করি, তা কেবল তিনিই আমাদের জন্য সহজলভ্য করে দিয়েছেন বলে পাই। আমরা যখন মারা যাব, তখন এই সব কিছু কেড়ে নেওয়া হবে আর তখন হয় আমরা যীশুর সঙ্গে অনন্ত সুখে থাকব, নয়তো তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার এক যন্ত্রণাদায়ক ভয়াবহতার মধ্যে পড়ে থাকব।
আমরা বুঝতে শুরু করি যে এই মহাবিশ্বে যীশুর কোলই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ গন্তব্য। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে আমরা যে শান্তি ও জীবনের স্বাদ অনুভব করতে পারি, তা-ই জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ। যে কোনো ব্যক্তি, যিনি যীশুর প্রকৃত সান্নিধ্যে জীবন কাটিয়েছেন, তিনি আপনাকে এটি প্রমাণ করে দেবেন যে তিনি অন্য সবকিছুর চেয়ে উত্তম।
শুরুতে তাঁকে আমাদের অন্তরে স্থান দেওয়াটা বেশ ভয়ের মনে হতে পারে, কারণ তিনি আমাদের ভেতরের মন্দ বা গুনাহগুলোকে উন্মোচিত করে আমাদের আত্মসমর্পণের দিকে ঠেলে দেন। কিন্তু আমরা যখন তাঁর কাছে নিজেকে সঁপে দিই, তখন তিনি এক প্রশান্তিদায়ক নিরাময় নিয়ে আসেন এবং আমাদের সহ্য করার ও আত্মিকভাবে বেড়ে ওঠার শক্তি দান করেন।
আপনি যদি যীশুর অন্বেষণ করেন এবং তাঁর কাছে নিজেকে সঁপে দেন, তবে তিনিই হবেন আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ আনন্দ। তিনি আপনার জীবনকে বদলে দেবেন এবং আপনাকে পরিশুদ্ধ করবেন।
তারপর, আপনার মৃত্যু হলে পরে আপনি তাঁর স্বর্গীয় কোলে আশ্রয় পাবেন।
গভীরে অনুসন্ধান করুন
রোমীয় ১:১-৭, ১ করিন্থীয় ১৫:১-৫ এবং রোমীয় ১০:৯-১০ অংশগুলো পাঠ করুন। এগুলো হলো যীশুর পুনরুত্থান পরবর্তী বিশদ বিবরণ। তারপর দানিয়েল ১২:২, ইয়োব ১৯:২৩-২৭, যিশাইয় ২৬:১৯-২১, হোশেয় ৬:১-২, গণনা ২১:৯ (এই প্রসঙ্গের অর্থ বুঝতে যোহন ৩:১৪-১৫ও পড়ুন), গীতসংহিতা ১৬:৯-১০ এবং গীতসংহিতা ৭১:১৯-২৪ পাঠ করুন। এগুলো হলো যীশু এই দুনিয়ায় আসার অনেক আগেই তাঁর পুনরুত্থানে এবং যারা তাঁর প্রতি বিশ্বাসে অটল থেকে মারা যাবেন তাদের পুনরায় জীবিত হওয়া সম্পর্কে বিশদ বিবরণ। যীশুর পুনরুত্থান আপনার কাছে কী অর্থ বহন করে এবং কেন আপনি মনে করেন তাঁর মৃত্যু থেকে জীবিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ তা লিখে রাখুন। আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকলে অন্য কোনো খ্রীষ্টানের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা করুন।