পাঠ ১০
যাদের ঈশ্বর নাজাত দিয়েছেন, তারা সবাই মিলে মণ্ডলী বা চার্চ। আমরাই সেই মণ্ডলী।
আমরা যদি বলি, 'আমাদের কোনো মণ্ডলীর দরকার নেই,' তাহলে আমরা আসলে বলছি, 'আমাদের অন্য কোনো খ্রীষ্টানের প্রয়োজন নেই এবং আমাদের নিজেদেরও খ্রীষ্টান হওয়ার প্রয়োজন নেই।'
আমরা ঈশ্বরের পরিবার। এই পরিবারের অংশ হওয়া আমাদের খ্রীষ্টীয় জীবন যাপনে সাহায্য করে। আমাদের একে অপরকে প্রয়োজন, কারণ একে অপরকে ছাড়া কোনো পরিবার হয় না। ভালোবাসার সাথে একে অপরকে সমর্থন না করলে আমরা ভেঙে পড়ব। ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন যেন আমরা একত্রে তাঁর সান্নিধ্যে থাকি। আমরা যদি অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে একটি মণ্ডলীর অংশ হয়ে হয়ে না থাকি, তবে আমাদের জীবন সার্থক হবে না।
আগুনের কুন্ডলী থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া কয়লার মতো আমরা যদি একা হয়ে পড়ি, তবে আমাদের ভেতরের আগুন নিভে যাবে। কিন্তু আমরা যদি এমন খ্রীষ্টানের সঙ্গে থাকি যাদের অন্তরে ঈশ্বরের জন্য গভীর ভালোবাসা জ্বলছে, তবে আমাদের ভেতরের আগুনের শিখাও আরও উজ্জ্বল হবে।
বাইবেল আমাদের নির্দেশ দেয় যেন আমরা একত্রে মিলিত হওয়ার গুরুত্বে অবহেলা না করি। আপনি যদি নিয়মিত অন্য বিশ্বাসীদের সঙ্গে বাইবেল পাঠ, প্রার্থনা এবং খ্রীষ্টীয় জীবন যাপনের জন্য একে অপরকে উৎসাহিত করতে মিলিত না হন, তবে এক সময় আপনি ঈশ্বর থেকে দূরে সরে যাবেন। অন্য খ্রীষ্টানদের সঙ্গে এভাবে সময় কাটানো আমাদের আত্মিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে; এটি আমাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে। এটা আমাদের স্বভাবজাত স্বার্থপরতা থেকে বের করে আনে।
আমরা কেবল কর্তব্যের খাতিরে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হই না। বরং একত্রে থাকাটা ঈশ্বরের এক বড় নেয়ামত বলেই আমরা মিলিত হই। এর মানে এই নয় যে আমাদের কেবল খ্রীষ্টান বন্ধুদের বাড়িতেই দেখা করতে হবে, যদিও সেটি সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এর চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন।
আমাদের আসলে ঠিক কী প্রয়োজন?
আমাদের প্রয়োজন কিছু প্রেমময় বন্ধু, ব্যক্তিগত জবাবদিহিতা, সঠিক শিক্ষা, বাইবেলীয় শাসন এবং অন্যদের খ্রীষ্টের কাছে নিয়ে আসার সুযোগ।
আমাদের এমন সব যাজক (পাস্টর) ও প্রবীণদের (এল্ডারদের) শাসনাধীনে থাকা প্রয়োজন যারা তাদের জীবনযাত্রার মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বস্ততা প্রমাণ করেছেন এবং যারা সত্যিই ঈশ্বর ও তাঁর বাণীকে গভীরভাবে জেনেছেন। আমরা যদি এমন যোগ্য শিক্ষকদের শাসনাধীনে না থাকি যারা নিজেরা যা প্রচার করেন তা নিজেদের জীবনেও পালন করেন, তবে ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস এমন ভুল পথে চলে যেতে পারে যা তিনি কখনো চাননি।
বেশিরভাগ মানুষই চায় না যে অন্য কেউ তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলুক বা জবাবদিহি চাক। আমাদের জীবন কেউ পরীক্ষা করে দেখবে এবং বলবে যে আমরা ভুল করছি ও আমাদের বদলানো দরকার—এটা শুনতে অস্বস্তিকর লাগে। কিন্তু আমাদের যদি কোনো জবাবদিহিতা না থাকে, তবে আমাদের ভুলগুলো জমা হতে হতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে যা আমাদের নিজেদের ও অন্যদের বড় ক্ষতি করবে।
বাইবেলে বর্ণিত গুণের অধিকারী যোগ্য শিক্ষকদের অধীনে একটি মণ্ডলীর অংশ হওয়ার মাধ্যমে আমরা নিজেদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখি।
যোগ্য শিক্ষকদের শাসন আমাদের এমন লোকদের হাত থেকেও রক্ষা করে যারা অন্যদের উপর জুলুম করতে চায়। এটা আমাদের এমন আশ্রয় দেয় যেখানে আমরা বিপদে পড়লে সাহায্য পেতে পারি। অনেক সময় আমাদের এমন কাউকে প্রয়োজন হয় যে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন দেবে।
পরিশেষে, মণ্ডলী আমাদের একটি সুশৃঙ্খল সামাজিক কাঠামো দেয় যার মাধ্যমে আমরা অন্যদের যীশুর সান্নিধ্যে নিয়ে আসতে সাহায্য করতে পারি। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে ঈশ্বর আমাদের জীবন বদলে দেওয়ার পর তিনি আমাদের হুকুম দিয়েছেন অন্যদেরও তাঁর সম্পর্কে শিক্ষা দিতে।
অগোছালোভাবে সুসমাচার প্রচার করা সহজ, তবে কাউকে মুরিদ বা শিষ্য হিসেবে গড়ে তোলা একটি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার। আমাদের উচিত সবসময় যাজক ও প্রবীণদের অধীনে থেকে অন্যদের শিষ্য হিসেবে তালিম দেওয়া, যাতে আমরা কাউকে ভুল পথে পরিচালিত না করি বা সাহায্য করতে গিয়ে উল্টো কারো ক্ষতি না করে ফেলি।
আপনি কীভাবে একটি মণ্ডলী খুঁজে পাবেন? প্রথমত, ঈশ্বরের কাছে সাহায্য চান। তারপর খোঁজখবর নিন। এমন মানুষদের খেয়াল করুন যারা পবিত্র ও প্রেমময় জীবন যাপন করছেন এবং জেনে নিন তাঁরা কোন মণ্ডলীতে যান। বিভিন্ন মণ্ডলীতে গিয়ে দেখুন। এমন একটি মণ্ডলী খুঁজুন যেখানে মানুষ আন্তরিক, অমায়িক ও প্রেমময়। এমন যাজক ও প্রবীণদের খুঁজুন যারা বাইবেলের স্পষ্ট শিক্ষায় বিশ্বাস করেন এবং বাইবেলের কথা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন না। নিশ্চিত হোন যে তারা যা বিশ্বাস করেন তা নিজেদের জীবনে পালনও করেন। নাহলে, তারা আসলে তা বিশ্বাস করে না।
আপনি যে মণ্ডলীতেই যান না কেন, দেখুন সেখানকার মানুষ কি একে অপরকে ভালোবাসা ও সেবা করে? তারা কি বাইবেলকে ভালোবাসে এবং বাস্তব জীবনে বিশ্বাসকে তাদের জীবনে আমল করার জন্য একে অপরকে সাহায্য করে, যা আপনি অনুভব করতে ও দেখতে পারেন? কেউ নিখুঁত হবে না! কিন্তু যারা নিজেদের জীবনের আমল নিয়ে পরোয়া করে না আর যারা নিজেদের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়—তাদের মধ্যে ফারাক আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন।
শুধু নিজেকে এই প্রশ্নটি করুন: সেখানে কি ঈশ্বরের উপাসনা ও তাঁর সম্মান বজায় রাখা হচ্ছে?
নিখুঁত মানুষ যেমন নেই, তেমনি নিখুঁত কোনো মণ্ডলীও নেই। শুধু একটি মোটামুটি ভালো মণ্ডলী খুঁজে নিন, নিয়মিত সেখানে যান এবং কোনো অভিযোগ করবেন না। আপনি মণ্ডলীর মধ্যে যে পরিবর্তন দেখতে চান, নিজেই সেই পরিবর্তন হয়ে উঠুন। খ্রীষ্টের প্রতি আপনার পরিবারকে উৎসাহিত করার সুযোগ খুঁজুন। মানুষকে অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসুন! পবিত্র অন্তরে ভালোবাসা থেকে সেবা করুন। মানুষের কাছে ‘ভালো’ সাজার জন্য নয়।
মনে রাখবেন যে আমরা সবাই মানুষ এবং আমাদের একে অপরকে প্রয়োজন। কে জানে, যে ব্যক্তিটি আজ আপনাকে বিরক্ত করছে তাকে হয়তো ঈশ্বর আপনার জীবনে পাঠিয়েছেন আপনার আত্মিক বৃদ্ধির জন্য। আর হয়তো আপনাকেই তাদের জীবনে পাঠানো হয়েছে যীশুর পথে বেড়ে উঠতে তাদের সাহায্য করার জন্য। শান্তিতে বসবাস করুন এবং একত্রে ঈশ্বরের গৌরব করুন। এটাই হলো আসল মণ্ডলী।
গভীরে অনুসন্ধান করুন
একটি মণ্ডলী (চার্চ) খুঁজে নিন এবং আগামী রবিবার সেখানে প্রার্থনায় শরিক হোন। সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আপনার অনুভূতি লিখে রাখুন। এটি আপনার মনে, আত্মায় ও শরীরে কীরূপ প্রভাব ফেলেছে তা বর্ণনা করুন।