পাঠ ৫
যখন আমরা মন্দ ত্যাগ করে ঈশ্বরের দিকে ফিরি, তখন তিনি আমাদের জীবনকে পূর্ণ করতে শুরু করেন। তিনিই হয়ে উঠেন আমাদের জীবন। আমাদের আনন্দ। তিনি জীবন সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেন। বাইবেলে এই প্রক্রিয়াটিকে আমাদের মনের নতুন করে গড়ে তোলা বলা হয়েছে।
বাইবেল এই পরিবর্তনকে তিনটি প্রধান উপায়ে চিত্রিত করে, যেখানে তাঁকে তিনটি ভূমিকায় তুলে ধরা হয়েছে: নাজাতদাতা, প্রভু ও বন্ধু।
বাইবেল আমাদের খুব স্পষ্টভাবে দেখায় যে যীশু তাঁর মৃত্যুর আগে ও পরে উভয় সময়েই একজন মানুষ ছিলেন। তিনি তাঁর শিষ্যদের এবং যাঁরা তাঁকে ভালোবাসতেন, তাঁদের 'বন্ধু' বলে ডাকতেন।
মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হয়ে যীশু যারা তাঁকে হত্যা করেছিল তাঁদের কাছে গিয়ে দেখাতে চাননি যে তারা কতটা ভুল ছিল। বরং, তিনি তাঁর বন্ধুদের জন্য নাস্তা বানালেন, তাঁদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ালেন এবং রাতের খাবারে তাদের সঙ্গী হলেন। অন্য একটি বর্ণনায় দেখা যায়, তিনি তাঁর বন্ধুদের কাছে একটি বাড়িতে হাজির হন, তাঁদেরকে তাঁর ক্ষতচিহ্ন দেখান এবং তাদের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন।
তিনি এটাই দেখাতে চেয়েছিলেন যে দুনিয়াতে তাঁর আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের সঙ্গে এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা।
মহাবিশ্বের ঈশ্বর আমাদের তাঁর বন্ধু বলে ডাকেন। আমরা যেমন তাঁকে সেবা করি ও ভালোবাসি, তিনিও তেমনি আমাদের সেবা করেন ও ভালোবাসেন। তিনি আমাদের অন্তরে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্ব নিয়ে বাস করেন। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।
আপনি যদি তাঁকে ভালোবাসেন এবং তিনি নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন তা বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনি আপনার নিজের মন্দ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন এবং আপনার জীবনে তাঁর ভালোবাসা ও শক্তির অনুভব লাভ করবেন।
নিশ্চয়ই তাঁর বন্ধুত্বের অনুভব পেতে হলে, তাঁর আমাদেরকে মন্দ থেকে উদ্ধার করতে হবে এবং আমাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু তাঁকেই হতে হবে। আমাদের নাজাতদাতা হিসেবে তিনি আমাদের প্রতিনিয়ত ক্ষমা করেন আর আমাদের মুক্ত করেন। আমরা তা আগের পাঠগুলোতে আলোচনা করেছি।
তাহলে 'প্রভু' হিসেবে যীশুর ভূমিকাটা কেমন?
প্রভু হলেন এমন একজন যিনি কর্তৃত্বের সাথে হুকুম দেন। তিনি যখন বলেন, ‘এটা করো,’ আর তাঁর সেবকেরা তা পালন করে। বাইবেল বলে, তিনি আমাদের প্রভু হওয়ার দাবি রাখেন। তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বে বাস করার জন্য এটি একটি পূর্বশর্ত।
তবে বিভ্রান্ত হবেন না। তিনি চান না আমরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও দাঁতে দাঁত চেপে তাঁকে মেনে চলি। যুগে যুগে ঈশ্বর এমন অনেক মানুষের উপর রুষ্ট হয়েছেন যারা কেবল বাধ্যবাধকতা থেকে তাঁকে মেনে চলত। বরং ঈশ্বর চান মানুষ তাঁকে খুশি করার ইচ্ছা থেকে তাঁর আনুগত্য করুক। তিনি চান আমরা যেন নিছক নিরুপায় হয়ে নয়, বরং প্রকৃত ভালোবাসা আর বিশ্বাস থেকে আমাদের জীবন তাঁকে সঁপে দেই।
আপনি যদি তাঁকে মেনে চলতে বা জীবন সঁপে দিতে না চান, তাহলে তাঁর বাণীতে (বাইবেলে) নিমগ্ন হোন। তিনি কে, আপনার সম্পর্কে তিনি কী বলেন এবং আপনার জন্য তিনি কী করেছেন—তা নিয়ে ভাবুন। তারপর তাঁর প্রতি আপনার আকাঙ্ক্ষাকে সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করুন।
কারো প্রতি নিজের আকাঙ্ক্ষাকে কীভাবে অনুসরণ করতে হয় এখানে তার একটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া হলো। প্রেমিক-প্রেমিকা যখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন তাঁরা সর্বদা একে অপরের প্রতি মায়া অনুভব করেন না। কিন্তু যখন তারা একে অপরের প্রতি সদয় আচরণ করে, তখন তাদের মায়া বাড়তে থাকে।
একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর জন্য একটি উপহার আনলেন, আর সেই উপহারটি প্রস্তুত করার সময় তাঁর স্বামীর সদয় আচরণের কথা মনে করলেন। এই যে পরিকল্পনা করা, উপহার কেনা এবং কার্ড লেখা, এইসব সাধারণ কাজই স্বামীর প্রতি তাঁর মায়া পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। কারণ, তার যখন মনে পড়ে তার স্বামী আসলে কেমন মানুষ এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেন, তখন তাঁর হৃদয়ে প্রকৃত অনুরাগের সৃষ্টি হয় এবং স্বামীর প্রতি তাঁর বিশ্বাসের মাধ্যমেই সেই অনুরাগ আবার জীবন্ত হয়ে উঠে।
একইভাবে, আমরা যখন নিজেদের মনে করিয়ে দেই যীশু আসলে কে এবং তাঁর আমাদের প্রতি সদয়তার কথা চিন্তা করি, তখন আমাদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি খাঁটি ভালোবাসা বাড়ে। এর ফলে তিনি আমাদের ইচ্ছাগুলোকে বদলে দেন এবং তিনি আসলে কে সেই ভালোবাসা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তাঁকে মেনে চলার শক্তি আমাদের দান করেন।
আমাদের জীবনে ঈশ্বরের ওয়াদার প্রতিফলন ঘটাতে হলে, তাঁর বাণী পাঠ, প্রার্থনা এবং তাঁর হুকুমের উপর বিশ্বাস রাখা এবং আদেশ পালনের মাধ্যমে তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসাকে বাড়িয়ে তোলা প্রয়োজন। এগুলোর সবই আমাদের মনোভাব বদলে দেয় আর আমরা তখন যীশুকে আমাদের নাজাতদাতা, প্রভু ও বন্ধু হিসেবে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠি।
এসব প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঈশ্বর এগুলোর মাধ্যমেই আমাদের সত্তাকে বদলে দেন। আমাদের নাজাতদাতা, প্রভু ও বন্ধু হিসেবে তাঁর যে পরিচয়, সেই পরিচয়ের উপর আমাদের বিশ্বাসের মাধ্যমেই তিনি আমাদের নিজেদের পরিচয়কেও নতুনভাবে গড়ে তোলেন।
গভীরে অনুসন্ধান করুন
কলসীয় ১:১৫-২৩ পদগুলো পড়ুন এবং এমন সব প্রিয় মানুষের একটি তালিকা তৈরি করুন যারা এখনও শোনেনি যে কেন আপনি যীশুকে অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কেনই বা তাঁকে আপনার নাজাতদাতা, প্রভু ও বন্ধু বলে মানেন। প্রার্থনা করুন যেন ঈশ্বর তাদের অন্তর খুলে দেন এবং ঈশ্বর কীভাবে আপনার জীবন বদলে দিয়েছেন সেই গল্পটি তাদেরকে বলার সুযোগ করে দেন। তিনি কি আপনাকে এমন সব সুযোগ দিচ্ছেন যা আপনি এখনও কাজে লাগাননি?